মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

নাবাতিয়েহ ঘিরে ফেলছে ইসরায়েলি বাহিনী, দক্ষিণ লেবাননে তীব্র সংঘাত

নিউজ ডেস্ক

 

দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহর চারপাশ ইসরায়েলি বাহিনী ঘিরে ফেলার অবস্থানে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে দেশটির একাধিক সামরিক ও সংবাদ সূত্র। এর ফলে অঞ্চলে নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি সেনারা লিতানি নদী অতিক্রম করেছে। ইসরায়েল এই নদীকে তাদের অঘোষিত ‘বাফার জোন’র সীমা হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল।

বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। দক্ষিণ লেবাননের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহরটি হিজবুল্লাহ-প্রভাবিত শিয়া জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল শহরটি ঘিরে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর প্রতিরক্ষা বলয় ভেঙে অগ্রসর হচ্ছে। এতে দক্ষিণ ও পশ্চিম লেবাননের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লেবাননের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, নাবাতিয়েহর কাছে একটি গাড়িতে হামলার ঘটনায় দুই সেনা গুরুতর আহত হয়েছে।

একই অঞ্চলের জেবশিত গ্রামে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন প্যারামেডিক নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে। হামলায় একটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া বেউফোর্ট দুর্গের কাছে ইসরায়েলি বিমান ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। ঐতিহাসিক এই দুর্গটি ২০০০ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, তারা ইয়োহমোর আল-শাকিফ এলাকায় একটি ইসরায়েলি সামরিক যান ধ্বংস করেছে এবং নাকুরা ও নাহারিয়া অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ১০টি গ্রামে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।

লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ। অনেক পরিবার আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে, আবার অনেকে খোলা জায়গা ও অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং বলেন, সামরিক চাপ লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ফোনালাপে বর্তমান যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় বলে জানা গেছে।

গত শুক্রবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যদিও একটি অঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করা হয়; তবে উভয় পক্ষের সামরিক কর্মকাণ্ড তা বারবার লঙ্ঘন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.