মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

সিলেট থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে যাদের নাম আলোচনায়

নিউজ ডেস্ক

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হতে না হতেই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ ও দৌড়ঝাঁপ। সারা দেশের মতো সিলেট বিভাগেও এ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নিচ্ছেন। একই দিন বিকালে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

এরপরই শুরু হবে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এসব আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সে অনুযায়ী, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংরক্ষিত আসনের ভোট আয়োজন করবে। এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা।

সিলেট অঞ্চলে সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে যাঁদের নাম ঘুরছে, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সহ-সম্পাদক, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার, প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের কন্যা সাবিনা খান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ তিন নেত্রী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তাঁরা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেননি। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে দুজন সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া আরও যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাঁরা হলেন—বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মহিলা উইং সদস্য, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)-এর সাবেক প্যানেল মেয়র অ্যাডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ। সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের বোন তাহসিন শারমিন তামান্না। অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী। সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর সালেহা কবির শেপি।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী-এর স্ত্রী। তাঁর বিজয় সিলেট অঞ্চলে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালালেও চূড়ান্ত মনোনয়ন কারা পাবেন, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় ভারসাম্য, সাংগঠনিক অবদান, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা ও কৌশলগত বিবেচনাই শেষ পর্যন্ত মনোনয়নে প্রভাব ফেলবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে আলোচনা ও প্রত্যাশা। এখন সবার নজর দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.