
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছেন বিশ্ব নেতারা। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ার পর নতুন করে সংলাপ শুরু করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো তারা ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। পাকিস্তানে সম্ভাব্য বৈঠকের পরিকল্পনা দুইবার বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তারা ছাড়বে না। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস ইরানকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অঞ্চল ও বিশ্বকে জিম্মি করা বন্ধ করতে হবে।” একই আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবও উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য বারবার ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি মিশন ঘোষণা করে নিরপেক্ষ দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তাদের যুদ্ধজাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, প্রণালীতে তাদের একটি জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সামুদ্রিক তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত উপসাগরে ৯০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছিল।
এদিকে লেবাননেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ইসরাইলের দুই সেনা আহত হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের কথাও আলোচনা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।