মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

চুনারুঘাটে সড়কের উপর ধান-খড় শুকানোর মহোৎসব

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে চালক ও পথচারী

চুনারুঘাট উপজেলার জন-গুরুত্বপূর্ণ সতং সড়কে ধান মাড়াই, খড় শুকানো এবং ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখার কারণে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশ দখল করে কৃষকদের এসব কার্যক্রমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জন-গুরুত্বপূর্ণ সতং সড়কের বিভিন্ন স্থানে এমনকি রাস্তার মাঝখানেই বসানো হয়েছে মাড়াইকল। কোথাও ধান শুকানোর জন্য রাস্তার উপর বিছিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ধান শুকানোর পর বড় বড় বস্তায় ভরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি খড়ের স্তূপও জমা করা হয়েছে। ফলে সরু এই সড়কে দুটি যানবাহনের একসঙ্গে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক সময় চলাচলের ক্ষেত্রে এক পাশের গাড়িকে থেমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় পথচারী ও চালকদের অভিযোগ, রোদে ধুলোবালি ও খড়ের উড়াউড়িতে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। আর সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির পানিতে খড় ও ধানের কুঁড়া পচে সড়কে পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি হয়। এতে মোটরসাইকেল ও অটো-রিকশাসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে।

একজন ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক বলেন- “রাস্তা এতটাই পিচ্ছিল হয়ে যায় যে, সামান্য ব্রেক করলেই বাইক স্কিড করে পড়ে যায়। খড় বিছিয়ে রাখায় ঠিকমতো গাড়ি চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। মনে হয় এখানকার বাসিন্দারা সড়ককেই নিজেদের উঠান বানিয়ে ফেলেছে।”

এদিকে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের হাঁটাচলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, অনেক কৃষকের নিজস্ব জায়গা থাকা সত্ত্বেও অবহেলা বা সুবিধার জন্য তারা সড়ক ব্যবহার করছেন। অথচ সরকারি সড়কে এভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সতং সড়কের এই নাজুক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.