শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর মুন্নি জন্মদিন (১৮), এখন দেখতে কেমন

বিনোদন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

 

ট্রেনে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভারতে আটকে পড়ে পাকিস্তানের এক ছোট্ট মেয়ে। কথা বলতে পারে না সে। নিজের নাম-পরিচয়ও কাউকে জানাতে পারে না। সেই শিশুকে ঘিরেই এগিয়ে যায় ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ সিনেমার গল্প। হারিয়ে যাওয়া শিশুটিকে তার পরিবারে ফিরিয়ে দিতে এক ভারতীয় যুবকের সীমান্ত পেরিয়ে ছুটে চলার আবেগঘন গল্পে মুগ্ধ হয়েছিল কোটি দর্শক। তবে ছবিটি মুক্তির পর শুধু সালমান খান নন, সবচেয়ে বেশি আলোচনায় চলে আসে ছোট্ট সেই মেয়েটি—মুন্নি। নিষ্পাপ মুখ, বড় বড় চোখ আর সংলাপ ছাড়াই অভিনয়ে দর্শকের হৃদয় জয় করেছিল যে শিশুটি, সেই মুন্নির ৩ জুন জন্মদিন।

হর্ষালি মালহোত্রাছবি: ইনস্টাগ্রাম

৩ জুন ১৮ বছরে পা দিলেন হর্ষালি মালহোত্রা। ২০০৮ সালের এই দিনে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া হর্ষালি মাত্র সাত বছর বয়সে ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিতে অভিনয় করে হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় শিশুশিল্পীদের একজন। কিন্তু দর্শকদের কাছে তিনি এখনো বেশি পরিচিত ‘মুন্নি’ নামেই।

২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ শুধু সালমান খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল সিনেমাই নয়, ভারতীয় মূলধারার সিনেমায় আবেগঘন গল্প বলার এক অনন্য উদাহরণও। আর সেই গল্পের কেন্দ্রেই ছিল ছোট্ট এক নীরব শিশু—মুন্নি। ছবিতে পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে দুর্ঘটনাবশত পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সে। পরে সালমান খানের অভিনীত পবন চরিত্রটি তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। সেই যাত্রাপথেই তৈরি হয় এক হৃদয়ছোঁয়া সম্পর্ক।

মজার ব্যাপার হলো, ছবিতে সালমান খান ছিলেন মূল নায়ক, কিন্তু মুক্তির পর দর্শকের বড় অংশের মনোযোগ চলে যায় ছোট্ট মুন্নির দিকে। বলা যায়, ছবির আবেগ, আবেদন আর জনপ্রিয়তার বড় অংশই দাঁড়িয়ে ছিল হর্ষালির অভিনয়ের ওপর। সংলাপ ছাড়াই শুধু চোখের ভাষা, অভিব্যক্তি আর উপস্থিতি দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। ছবিটি মুক্তির পর বিভিন্ন সমালোচক লিখেছিলেন, এত অল্প বয়সে এমন নিয়ন্ত্রিত ও আবেগময় অভিনয় সত্যিই বিরল। আজও আইএমডিবিতে ছবিটির রেটিং ৮.১—যা এত বছর পরও দর্শকপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।

হর্ষালি মালহোত্রাছবি: ইনস্টাগ্রাম

তবে বাস্তব জীবনের হর্ষালি একেবারেই অন্য রকম। পর্দায় চুপচাপ মুন্নিকে দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, বাস্তবেও হয়তো তিনি শান্ত ও লাজুক। কিন্তু বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে হর্ষালি নিজেই জানিয়েছেন, বাসায় সবাই তাঁকে ‘বাচাল’ বলেই চিনতেন। পরিচালক কবির খানও একবার বলেছিলেন, তাঁর দেখা সবচেয়ে বেশি কথা বলা শিশুদের একজন ছিলেন হর্ষালি।

‘বজরঙ্গি ভাইজান’–এ অভিনয়ের পেছনের গল্পটিও বেশ চমকপ্রদ। জানা যায়, মুন্নি চরিত্রের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার শিশুর অডিশন নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর পরিচালক কবির খান বেছে নেন হর্ষালিকে। পরে শুটিংয়ের সময় সালমান খানের সঙ্গে তাঁর দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে যায়। সেই সময় থেকেই সালমানকে ‘মামা’ বলে ডাকতেন তিনি। ছোটবেলায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হর্ষালি বলেছিলেন, বড় হয়ে সালমান খানের মতো জনপ্রিয় তারকা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

হর্ষালি মালহোত্রাছবি: ইনস্টাগ্রাম

অভিনয়ে তাঁর যাত্রা শুরু আরও ছোট বয়সে। মাত্র ২১ মাস বয়সে প্রথম বিজ্ঞাপনে কাজ করেন হর্ষালি। পরে আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেও ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ তাঁকে এনে দেয় রাতারাতি পরিচিতি। তবে সিনেমাটির পর আর খুব বেশি অভিনয়ে দেখা যায়নি তাঁকে। কারণ, তাঁর পরিবার শুরু থেকেই পড়াশোনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, আগে লেখাপড়া, পরে অভিনয়।

এখন আর প্রথম দেখায় অনেকেই সেই ছোট্ট মুন্নিকে চিনতে পারেন না। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে তাঁর চেহারা, স্টাইল আর ব্যক্তিত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই ভক্তদের কাছ থেকে তাঁকে শুনতে হয়, ‘আপনিই কি সেই মুন্নি?’

হর্ষালি মালহোত্রাছবি: ইনস্টাগ্রাম

বর্তমানে হর্ষালি পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ শেখার দিকেও মনোযোগী । বিশেষ করে কত্থক নাচ অনুশীলন করেন নিয়মিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নিজের নাচের ভিডিও, ফটোশুট ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্ত শেয়ার করেন। অভিনয়ে নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনো ঈর্ষণীয়।

১১ বছর আগে যে ছোট্ট মেয়েটি কথা না বলেও কোটি দর্শকের মন জয় করেছিলেন, আজ তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু সময় বদলালেও দর্শকের মনে তাঁর পরিচয় এখনো একটাই—‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর সেই নিষ্পাপ মুন্নি। শুভ জন্মদিন মুন্নি!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.