শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

অতিরিক্ত ফাউলের অভিনয় করলে বিশ্বকাপে দেখতে হবে হলুদ কার্ড

খেলা ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

 

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কেবল মাঠের পায়ের জাদু কিংবা গোলের আনন্দ নয়, এর পেছনে জড়িয়ে থাকে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা, আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আই এফএবি) এবং বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থার (ডাব্লিউএডিএ) একগুচ্ছ কঠোর নিয়মকানুন। মাঠ ও মাঠের বাইরে ফুটবলারদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু স্বাধীনতা থাকলেও, টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা ও স্পনসরদের স্বার্থ রক্ষার্থে তাদের মানতে হয় কঠিন সব বিধিনিষেধ।

ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রেফারিরা আইএফএবি-এর নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করেন। গোল করার পর আনন্দে গায়ের জার্সি খুললে, অতিরিক্ত সময় নষ্ট করলে কিংবা গ্যালারির দর্শকদের উসকানি দিলে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে হলুদ কার্ড দেখাবেন। ফাউলের শিকার না হয়েও ফাউলের ভান করা বা পেনাল্টি পাওয়ার আশায় বক্সে ‘ডাইভ’ দিলেও খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ডের শাস্তি পেতে হবে। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আক্রমণাত্মক আচরণ করা, ভয় দেখানো বা গালিগালাজ করলে হলুদ বা সরাসরি লাল কার্ড নিশ্চিত। টুর্নামেন্টের আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচে ওই খেলোয়াড়কে বাধ্য হয়ে দর্শকের সারিতে বসতে হবে। আর লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে গড়িমসি করলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

খেলোয়াড়দের মাঠে নামার আগে পোশাক ও ব্যক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠে আংটি, গলার চেইন, ঘড়ি বা ব্রেসলেটের মতো যেকোনো ধরনের গয়না পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে ম্যাচ রেফারি ও দলীয় চিকিৎসকের অনুমতিক্রমে খেলোয়াড়রা ব্যান্ডেজ, ফেস মাস্ক বা বিশেষ সুরক্ষামূলক গার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে ভেতরের গেঞ্জি বা মূল জার্সিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান বা বার্তা প্রদর্শন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বদল করার ঐতিহ্যবাহী রীতিতে ফিফার পূর্ণ সম্মতি রয়েছে। এ ছাড়া, ফিফার পূর্ব অনুমোদন সাপেক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে দলগুলো বর্ণবাদবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে (যেমন হাঁটু গেড়ে বসা) অংশ নিতে পারে।

মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং অনলাইন কর্মকাণ্ডের ওপরও থাকে কঠোর নজরদারি। বিশ্বকাপ চলাকালীন যেকোনো ম্যাচ শেষে, এমনকি দলের অনুশীলন সেশনে বা টিম হোটেলেও ওয়াডা ও ফিফার প্রতিনিধিরা আচমকা ডোপ টেস্টের জন্য ডাকতে পারেন। ফিফা ও ওয়াডার নিয়ম অনুযায়ী, ডোপ টেস্টে অস্বীকৃতি জানানো বা নমুনায় কারচুপির চেষ্টা করলে ক্যারিয়ারে বড় নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে। খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্বাধীনতা থাকলেও আপত্তিকর, বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনেক দলই তাদের খেলোয়াড়দের অনলাইনের গতিবিধি নজরে রাখে। ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন বা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক; পূর্ব অনুমতি ছাড়া এটি এড়িয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়।

তাছাড়া এসব অফিশিয়াল অনুষ্ঠানে অননুমোদিত স্পনসর বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচার চালানোও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এর বাইরে যাতায়াত এবং ঘোরাঘুরির ক্ষেত্রেও খেলোয়াড়দের নিয়মের মধ্যে থাকতে হয়। ক্যাম্প বা হোটেল ছাড়তে হলে কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের আগাম অনুমতি লাগে এবং যাতায়াতের জন্য দলগুলোকে শুধু ফিফার নির্ধারিত অফিশিয়াল যানবাহনই ব্যবহার করতে হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.