বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন

ভিজিট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের নতুন যে বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 

অভিবাসন ভিসা স্থগিতের পর এবার বাংলাদেশিদের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করবে—সে বিষয়ে প্রকাশিত এক বার্তায় এই তথ্য জানায়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে। পাশাপাশি গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জামানত বা বন্ড জমা দিতে হবে।

এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো হলো—

*ভিসার জন্য অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে।

*ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov-এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন।

*সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি এবং একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়া হবে।

*নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি ব্যবহার করেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।

*ভিসার শর্ত পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজ না করা এবং সময়মতো দেশে ফেরা।

বাংলাদেশের নাম ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় যুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে অবস্থান করেন (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক:
ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি নাগরিকরা কেবল নিম্নোক্ত বিমানবন্দরগুলো দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন—

বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)

জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)

ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)

এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা।

তালিকাভুক্ত দেশগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.