বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আগে ‌‌‘‘নতি স্বীকার করতে হবে।’’

মঙ্গলবার ইরানের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিষয়ে জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর প্রথম পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বৈঠক আয়োজন করেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ‘‘অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয়’’ অবস্থান গ্রহণ করেন। সর্বোচ্চ নেতা সশরীরে না কি ভার্চুয়ালি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, দু’টি মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছিল। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত কিংবা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর নাম জানাননি তিনি।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, ‘‘যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল নতি স্বীকার করছে, পরাজয় মেনে নিচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ শান্তির জন্য এটি সঠিক সময় নয়।’’

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রীয় সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এক সপ্তাহ আগে পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নতুন কোনও ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার জন্য চালানো হামলায় নতুন সর্বোচ্চ নেতাও সামান্য আহত হয়েছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চাওয়ার অনুরোধ তার মিত্ররা প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর গত সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত প্রথম বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেছিলেন, ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। গত ১৪ মার্চ তিনটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছিল, ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: রয়টার্স।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.