শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

পদত্যাগ না করলে বরখাস্ত হতে পারেন মমতা

আন্তজার্তিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে দলটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ মোট ২২ জন মন্ত্রী নিজেদের আসনে পরাজিত হয়েছেন। যদিও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে পরাজয় মেনে নিতে নারাজ মমতা। তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান ঘোষণা করেছেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না।

মমতা বলেছেন, রাজভবনে কীসের জন্য যাব? আমরা তো হারিনি যে যাব।

মমতার এই ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বলা হচ্ছে সিদ্ধান্ত না বদলালে বরখাস্ত হতে পারেন মমতা। আর এমনটি ঘটলে তা হবে ভারতের রাজনীতির মাঠে নজিরবিহীন ঘটনা।

শেষ পর্যন্ত যদি মমতা পদ না ছাড়েন তাহলে তাকে বরখাস্ত করতে পারেন গভর্নর। এ জন্য রাজভবন থেকে জারি করতে হবে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ।

ভারতের সংবিধানের ১৭২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা, যদি তার আগে ভেঙে দেওয়া না হয়। তবে তার প্রথম বৈঠকের জন্য নির্ধারিত তারিখ থেকে পাঁচ বছরের জন্য বলবৎ থাকবে এবং এর বেশি নয় এবং উক্ত পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলে বিধানসভাটি ভেঙে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ ৮ই মে, ২০২১-এ শুরু হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ৭ই মে শেষ হবে। এরপর গভর্নরকে নতুন বিধানসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যার অর্থ নতুন বিধায়কদের শপথ নিতে হবে এবং একটি নতুন সরকার নির্বাচিত করতে হবে।

মমতা যদি গদি না ছাড়েন তাহলে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ বা রাষ্ট্রপতি শাসনও জারি হতে পারে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগ না করার অর্থ হলো রাজ্যে একটি সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গভর্নর সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠাতে পারেন। আর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেই রাজ্যের সব ক্ষমতা চলে যাবে কেন্দ্রের হাতে। সে ক্ষেত্রে বিলুপ্ত হয়ে যাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ। আর বরখাস্ত হবেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

৭ মে সময়সীমার আগে মমতা সিদ্ধান্ত বদল না করলে ভারতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম হবে। কারণ, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে এবং রাজনৈতিক দলে নির্বাচনের পর একাধিকবার ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীরা সরে দাঁড়িয়েছেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছেন।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.