
দুর্ঘটনার ঝুঁকি
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গ্যাস বঞ্চিত ওসমানীনগরে দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)’র চাহিদা। সাধারণ মানুষের চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার যততত্র গড়ে উঠেছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান। এসব দোকানে নেই কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এলপিজি গ্যাসসহ সিলিন্ডারের দোকান।
লাইসেন্সবিহীন এসব দোকানগুলোতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি। আইনের তোয়াক্কা না করেই শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই দোকান খুলে বাংলাদেশে সরকার কর্তৃক এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া সত্ত্বেও, খুচরা পর্যায়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো বা অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন, অভিযোগও রয়েছে প্রতিনিয়ত। আলাদা দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব গ্যাস সিলিন্ডার। নিয়ম অনুযায়ী, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুত করতে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধানও রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ম এখানে মানা হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
তবে, এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা জুড়ে চলছে সিলিন্ডার ব্যবসার নৈরাজ্য। সরকারি দামে গ্যাস বিক্রি না করে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ।
এদিকে, গত বছরের ১৮ আগস্ট রাতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের পাশে উপজেলার তাজপুর ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন আজহার আলী কমপ্লেক্সে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দোকানে আগুন লাগে। এই ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, উপজেলার দুলিয়ারবন্দ গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র মিনার হোসেন (৪০), গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা মকাব্বির হোসেন (৩০)। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকান্ডে দুটি দোকান পুড়ে ছাই হয়।
জানা গেছে, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অন্য ব্যবসার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও প্রধান সড়কের মোড়গুলোতে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস। ফলে দেখা দিয়েছে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির আশঙ্কা। এলপিজি গ্যাস কোম্পানিগুলোর ডিলাররা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার মজুদ আইন অনুস্মরণ করছে না। ফলে বাজারগুলোসহ মহাসড়কের পার্শ্বে থাকা মুদির দোকান, পানের দোকান, চায়ের দোকানসহ অনিরাপদ স্থানে অগ্নিনির্বাপক বা অক্সিজেন ছাড়া অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী শঙ্কিত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে পুরোপুরি নির্বিকার।
সূত্র জানায়, বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর দ্য এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ক্ষেত্রে এলপিজি মজুদ করা যাবে না বলা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে। একই বিধির ৭১ নং ধারায় বলা আছে, আগুন নেভানোর জন্য স্থাপনা বা মজুদাগারে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে।
একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রাতা জানেন না গ্যাস সিলিরন্ডার বিক্রি করতে কোন কোন লাইসেন্স প্রয়োজন। অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের সিলিন্ডার ও পেট্রল রাখা হয় একেবারে খোলা আকাশের নিচে। প্রচন্ড রোদ ও বর্ষার সময় বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যায়। অনেকে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রাখার নিয়মকানুন সম্পর্কে জানেন না।
তাই এসব ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত বা প্রচারণা চালানোরও দাবি করছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে গ্যাস সিলেন্ডার বিক্রির ব্যবসায়ীদের নেই কোন তালিকা।
বুধবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে সেখানে দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত ফায়ার ফাইটার হুমায়ুন বলেন, লাইসেন্স সিলেট কার্যালয় থেকে দেয়া হয়। ওসমানীনগরে কত জন ব্যবসায়ী লাইসেন্স নিয়েছেন তার কোন তালিকা আমাদের কাছে নেই।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন মুন নাহার আশা বলেন, বৈধ ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্থত করা হচ্ছে। লাইসেন্স বিহীন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।