শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ ইরানকে পাঁচ শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তজার্তিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

 

চলমান আলোচনায় ইরানের সামনে পাঁচটি বড় শর্ত তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১৭ মে) ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা ঘিরে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতের নিষেধাজ্ঞা ও নীতিগত সিদ্ধান্তে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়া আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানকে ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরেকটি শর্তে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে কেবল একটি সক্রিয় রাখা যাবে। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদের ২৫ শতাংশও ছাড় দিতে রাজি হয়নি ওয়াশিংটন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত বন্ধের বিষয়টিকে আলোচনার অগ্রগতি ও সমাপ্তির সঙ্গে যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি এসব শর্ত মানা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হুমকি বহাল থাকবে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বাস্তব ছাড় দেয়নি। মেহের নিউজ বলছে, যুদ্ধের মাধ্যমে যে ছাড় আদায় করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমে সেটাই আদায়ের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়বে।

এদিকে যেকোনো আলোচনার আগে পাঁচটি বিশ্বাস তৈরির শর্ত দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে, সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ, বিশেষ করে লেবাননে; ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত ইরানি অর্থ ছাড়।

ইরান আরও দাবি করেছে, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং বৈশ্বিক তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিতে হবে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি অভিযোগ করেছেন, সামরিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কূটনীতিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার নামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভণ্ডামি করছে। বাস্তবে তারাই অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত সৃষ্টি করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি লেখেন, সংকট ও যুদ্ধ তৈরি করে পরে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে আরও উত্তেজনা বাড়ানোই তাদের পুরোনো কৌশল।

সম্প্রতি ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, ইরানের প্রস্তাব না মানলে এর বড় মূল্য গুনতে হতে পারে মার্কিন জনগণকে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। জবাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় ইরান।

পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে পরবর্তী আলোচনা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সূত্র : এনডিটিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.