বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

পুলিশের গাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন, তুমুল সংঘর্ষ

নিউজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

 

ধর্ষণের অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবির জেরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকা থেকে মূল সড়কে। পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। সড়ক অবরোধ করে আগুন-ভাঙচুরের একপর্যায়ে শুরু হয়েছে তুমুল সংঘর্ষ।

রাত পৌনে ১টার দিকে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে জনতাকে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করে। ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন অলিগলিতে ঢুকে পড়ে মানুষ। পরবর্তীতে আবারও সংগঠিত হয়ে সড়কে আসে তারা৷

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকে বহদ্দারহাট-শাহ আমনত সেতু সংযোগ সড়কে বাকলিয়া থানার তুলাতলী থেকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা পুরোপুরি রূপ নিয়েছে রণক্ষেত্রে। পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের মধ্যে বিভিন্ন দোকানপাট ও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরাও আটকে আছেন অনেকে।

পুলিশের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর বাকলিয়া থানার চরচাক্তাই নুর চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার বাসিন্দা সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে এলাকাবাসী। অভিযুক্ত মনির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের কর্মচারী।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মনিরকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগী শিশুটিকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে।

অভিযুক্তকে নিয়ে পুলিশ থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগেই রাস্তায় নেমে পুরো এলাকা অবরুদ্ধ করে ফেলে স্থানীয়রা। পুলিশের গাড়ি আটকে মনিরকে বিচারের জন্য তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানায় তারা।

এমন পরিস্থিতিতে রাত ৮টার পর অতিরিক্ত পুলিশ-র‍্যাব গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরানোর চেষ্টা করলে শুরু হয় সংঘর্ষ। আত্মরক্ষায় টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। রাত ১০টার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হলে আটক মনিরকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিশোর মজুমদার আগামীর সময়কে জানান, ‘মনিরকে আমরা আমাদের হেফাজতে নিরাপদ স্থানে রেখেছি। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত স্থানের নাম প্রকাশ করা হবে না।’

এদিকে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও তুলাতলী এলাকায় মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.