বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন

১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় নতুন নির্দেশ, ডিএনএ পরীক্ষা আদেশ

নিউজ ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

 

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পর তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এর বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে আগে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছিল, তবে তা মিলিয়ে দেখা হয়নি। এ প্রেক্ষিতে আদালত সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে তারা সবাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়া হলে সোমবার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর বিচারক এই নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলেন।

এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে আসছেন। বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করেও এখনও বিচার পাননি। তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের নিকটবর্তী একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটি পিবিআইয়ের তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.