বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন

রাজধানীতে এক দিনে তাপমাত্রা বেড়েছে ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস

নিউজ ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

 

বৃষ্টিপাত কমে তাপমাত্রা বাড়ছে। এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে তাপমাত্রা বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই দিন ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-একটি এলাকা ছাড়া সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা আরো দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটি পূর্বাভাসে বলছে,  সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের দু-একটি এলাকা ছাড়া সারা দেশের আর কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। এ সময় তাপমাত্রা আরো ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। রোববার ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-একটি এলাকা ছাড়া সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন তাপমাত্রাও আরো ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবর্তনের আভাস নেই।

এর আগে শুক্রবার আগের দিনের তুলনায় সারা দেশে শূন্য দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস দিনের তাপমাত্রা বাড়ে। গত বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল রেকর্ড করা হয় যশোরে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় গতকাল রাজধানীতে ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। আজ দুপুর ১২টায় রাজধানীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজধানীতে তাপমাত্রা বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও পরিধিও কমেছে। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সংস্থাটির ৫১টি স্টেশন পর্যবেক্ষণের কেন্দ্র এলাকার মধ্যে মাত্র চারটি এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ২৭ মিলিমিটার। এছাড়া সিলেটে ১৩, নেত্রকোনায় ৬ ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। অর্থাৎ, আগের কয়েক দিনের তুলনায় সারা দেশেই বৃষ্টি একেবারে কমে এসেছে। আজ রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।

আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, আবহাওয়ার যে পরিস্থিতি, তাতে আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়বে। এতে আবারও তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষায়, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।

তবে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ২০২৪ সালে টানা ২৬ দিন এবং ২০২৩ সালে ২২ দিন দেশে তাপপ্রবাহ ছিল। তবে এবার তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও ওই দুই বছরের ন্যায় তাপপ্রবাহের কোনো সম্ভাবনা নেই। কেননা, এবার তাপপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি থাকবে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর আগে গত ২ এপ্রিল দেশের ১৭ জেলায় এবং পরদিন ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। পরদিন শনিবারও ১৫ জেলায় তাপপ্রবাহ থাকে। ৩ এপ্রিল চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ জেলায় চলতি মাসের শুরুর দিকে টানা তিন দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর পর থেকে বৃষ্টির প্রভাবে তাপপ্রবাহ কমে যায়। এতে গত রোববার থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত দেশের কোথাও আর তাপপ্রবাহ দেখা যায়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে গরম ততটা অনুভূত হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s.